আন্তর্জাতিক : গত ৭ জানুয়ারি ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল বা ইআরআইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কার্যকরী এবং আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা নিয়ে কঠোর প্রদক্ষেপ না নিলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না। শুধু গোলটেবিল আলোচনায় সীমান্তে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশীদের হত্যার যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে তা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন মানবাধিকা কর্মীরা। এক যুগ আগে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলীতে নিহত কিশোরী ফেলানী হত্যার বিচার ও সীমান্ত হত্যাকা-ের প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল-ইআরআই।
ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল বা ই আর আইয়ের উদ্যোগে গত শনিবার লন্ডনে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে ২ টা পর্যন্ত ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির সভাপতি মো: মাহবুব আলী খানসুরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নৌশিন মোস্তারী মিয়া সাহেবের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনটির সহ সভাপতি রোকতা হাসান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ এমদাদুল হক, এ এ ওয়াহিদুল ইসলাম, মাহমুদ হোসাইন, মোঃ নাহিদ তালুকদার, সহ সম্পাদক মোঃ ওসমান গনি, এস এম রেজাউল করিম, শাহরিয়ার কালাম আজাদসহ মানবাধিকার কর্মী ছাত্র-শিক্ষক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ব্রিটিশ-বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারত থেকে বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার পথে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলীতে নিহত হন ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী। ফেলানীর লাশ কাঁটাতারে চার ঘণ্টার বেশি সময় ঝুলে ছিল। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর লাশ আলোড়ন তুলেছিল দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অত্যান্ত নিষ্ঠুরভাবে কিশোরী ফেলানীকে ভারতীয় বিএসএফ গুলী করে হত্যা করে যাহা ইতিহাসের অন্ধকার যুগকেও হার মানায়। দীর্ঘ ১২ বছর ফেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ সরকারের নতজানু নীতির কারণে ফেলানী হত্যার বিচার এবং হত্যাকারী বিএসএফ সদস্য অমিও ঘোষের শাস্তি আদৌ হয়নি বলে দাবি করেন বক্তারা। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছেই। বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে এসব হত্যার বিচার আমরা এখনো পাচ্ছি না। বাংলাদেশের শাসক শ্রেণি এবং ভারতের শাসক শ্রেণি একে অপরের স্বার্থের পরিপূরক। তাদের এই স্বার্থের সঙ্গে ভারতের সাধারণ মানুষ এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই দুই দেশেরই সাধারণ মানুষকে সীমান্ত হত্যাকা-ের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইনের কোন তোয়াক্কা না করে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করছে। গত ২০০০ সাল থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমান্তে ১২৫৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়া একই সময়ে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী ১৪০৮ জন বাংলাদেশীকে অপহরণ করেছে। গুলীতে আহত হয়েছেন আরো ১১৫৭ জন বাংলাদেশী নাগরিক। আমরা মানবাধিকার সংগঠন ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অতিসত্বর ফেলানী হত্যার বিচার এবং সীমান্তে হত্যা রোধের জন্যে জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি ।
সীমান্তে “Shoot-on-Sight” তথা দেখা মাত্র গুলী” বিএসএফের এই নীতির কড়া সমালোচনা করে সংগঠনটির সেক্রেটারি এবং মানববন্ধনের পরিচালক নৌশিন মোস্তারী মিয়া সাহেব বলেন, আধুনিক সভ্যতার এই যুগে এই নীতি চরম বর্বর এবং অমানবিক । ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে এই নীতি নিষিদ্ধ করতে আমরা এই মানব বন্ধন থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।
সহ সম্পাদক মোঃ ওসমান গনি তার বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাজ্যে গত এক বছরে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ৪৫ হাজারের বেশি বিভিন্ন দেশের মানুষ প্রবেশ করেছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছেন। অথচ, ভারতের তাবেদার ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যাকা- থামছে না।
অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, ফাইটস ফর রাইটস ইন্টারন্যাশনালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ আমিনুল ইসলাম সফর সহ আরো অনেকে। এছাড়া উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ শাহাদাত হোসাইন, জুবায়ের আহমেদ, সায়েম আহমদ, মোঃ আনোয়ারুল আমিন, আল আমিন, মোঃ মাসুদুল হাসান, আবু জাফর আব্দুল্লাহ, রাজু আহমেদ, আব্দুল আলিম, জামিল হোসাইন, এরশাদুল ইসলাম তপু, লেয়াকত হোসাইন, মোঃ মনসুর উদ্দিন প্রমুখ।
Copyright Banglar Kontho ©2022
Design and developed by Md Sajibul Alom Sajon